Siliguri: Trisangam international refereed journal
Doi
Abstract
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আমাদের ‘মঙ্গলকাব্য’ সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার, অর্থাৎ মঙ্গলকাব্য কি? এ প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ শাখা মঙ্গলকাব্য। যা মূলতঃ খ্রীষ্টিয় পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর ফসল। ড.অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত’ বইতে মঙ্গল কাব্য বলতে বুঝিয়েছেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা প্রচার সম্মন্ধীয় এক প্রকার আখ্যানকাব্যকে। মানুষ বিপদে পড়লে দেব-দেবীদের শরণ করেন। বাংলার মঙ্গলকাব্যগুলির উৎপত্তির মূলে এই ধরনের আপদ-বিপদের প্রভাব আছে। যেমন– সাপের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য সর্পদেবী মনসার পূজা, তেমনি হিংস্র পশুর হাত থেকে রক্ষা পেতে দেবী চণ্ডীর পূজা। সাধারণ ভাবে বলা যায় বেশীর ভাগ মঙ্গল কাব্যেই দেবীর পূজা প্রচারিত হয় এবং এই পূজা প্রচারের জন্য কোন না কোন ভক্তকে অভিশাপ প্রাপ্ত হতে হয়ে আসতে হয় মর্ত্যে। কার্য সমাপ্ত ঘটলে তারা আবার ফিরে যান স্বর্গে।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে দেব-দেবীর প্রচারমূলক এক বিশেষ সাহিত্য শাখা হল ‘মঙ্গলকাব্য’। এই মঙ্গলকাব্যগুলি যারা শুনতেন বা যারা শোনাতেন, সকলেরই মঙ্গল হত। এই মঙ্গল কাব্য ধারায় যে মঙ্গলকাব্যগুলি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য, সেগুলি হল- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, শিবায়ন ও অন্নদামঙ্গল প্রভৃতি। এই সব মঙ্গলকাব্যগুলি মোটামুটি ভাবে পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর সময়কালে রচিত হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়কালে শাসক সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাব্যের মূল কাঠামো এক থাকলেও সামাজিক রীতি-নীতি, খাদ্য, পোষাক, আচার-আচরণের বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছে
Is data on this page outdated, violates copyrights or anything else? Report the problem now and we will take corresponding actions after reviewing your request.